
মূল্যবান-সম্পদঃ কোরবানির চামড়া, লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করবো আমরা
গত ২০ জুলাই ২০২১ ইং রোজ মঙ্গলবার মোবাইলে একটি মেসেজ আসলো। ঈদের ঠিক আগের দিন। মেসেজটির শেষে লেখা রয়েছে, ‘বাণিজ্য-মন্ত্রণালয়’। মেসেজে বাণিজ্য-মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য দেখে ভালো লাগল। দেশের অর্থনৈতিক উন্নোতির জন্য যে কোন পদক্ষেপ নিতে পারে দেশের ‘বানিজ্য-মন্ত্রণালয়’।
এবং নেওয়াই উচিৎ। করোনা মহামারিতে দেশের জনগণ যখন খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে, সে মুহূর্তে জাতির অর্থনৈতিক উন্নোতির জন্য এমন উদ্দোগ বা পরামর্শ কে সাধুবাদ জানাই। এটা বলতেই হবে যে, করোনার নামে লগ ডাউনের কবলে জনগণ যখন প্রায় মৃত্যুকুপে পতিত, তখন বাণিজ্য-মন্ত্রণালয়ের
কাছ থেকে বাংলার মানুষজন অবশ্যই ভালো কিছু আশা করবে এবং সু-পরামর্শের কামনা করবে। বোধহয় তারা এ দৃষ্টিকোণ থেকেই এমন সুন্দর পরামর্শ দিয়ে দেশের আপামর জনসাধারণকে কৃতজ্ঞতার জালে আবদ্ধ করেছেন। যেন সকলেরই তৈরী হয় স্বচ্ছলতার ক্ষেত্র।
কি ছিল সেই মেসেজে?
মেসেজটিতে ছন্দাকারে খুবই চমক প্রদভাবে লেখা ছিল দুইটি বাক্য। ‘মূল্যবান সম্পদ কোরবানির চামড়া, লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করবো আমরা’-বাণিজ্যমন্ত্রণালয়। আসলেই তো চামড়া মূল্যবান সম্পদ। আগে ছিল ৩০০০-৫০০০ আর এখন হয়েছে ৩০০-৫০০। সময়ের ব্যবধানে বাজারমূল্য এখন কতইনা ভালো!
আগে চামড়া বাড়ী থেকে এসে কিনে নিয়ে যেত। কোরবানি দাতার চামড়া নিয়ে কোন পেরেশানী করতে হতো না। আর এখন কোরবানি দেওয়ার পূর্বে চামড়া কি করবে তার চিন্তায় থাকে। এবারও আমি বহু জায়গায় দেখেছি, মাগরিব নামাযের সময় হয়ে গেছে দাতা চামড়া নিয়ে বসে আছে।
আমাকে বলল, এটা নেওয়ার কি কোন ব্যবস্থা আছে? আমি বললাম, এ বিষয়ে আসলে আমার কিছুই জানা নেই। আর মনে মনে মেসেজেরে পূর্বোক্ত ছন্দটি আওরাতে লাগলাম। একবার বলতেও চেয়েছিলাম। কিন্তু আবার হিম্মত হলো না। কে জানে চাচা আবার এ অবস্থায় কি বলে বসে। সারাদিনে গোস্ত
কেটে না খেয়ে আছে। মাথা তো একটু গরম থাকতেই পারে। আরেক জায়গায় দেখলাম, দেয়ালের উপর চামড়া রেখে দেওয়া হয়েছে। নেবার কেউ নেই। আমি আমার নিজের কুরবানির চামড়াটি নিয়ে বিপদে পড়েছিলাম আরো বেশি। গোস্ত বানানোর পর চামড়াটি নিয়ে অনেকক্ষণ বাইরে দাঁড়িয়ে থাকলাম।
কিন্তু না, এ ব্যাপারে কারো কোন সাড়া-শব্দ নেই। শেষ মেষ এক ভিখারিকে বললাম, চাচা চামড়াটি নিতে পারেন। আমার এ কথায় আমি ভেবেছিলাম, চাচা হয়তো মুগ্ধ হয়ে এবং অতিশয় আশ্চরয প্রকাশ করে বলবেন, ‘ফ্রীতেই নেব? কিন্তু চাচার উত্তর শুনে আমি একেবারে বোবা হয়ে গেলাম।
চাচা বললেন, ‘চামড়া নিবো কেডায়, পারলে গোস্ত দেন’। এই বার আমি বানিজ্য-মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাটি না মেনে আর থাকতে পারলাম না। ব্যস! চামড়াটি টিনের উপর ফেলে দিলাম এবং দুই দিনেই মাশাল্লাহ্ শুকিয়ে খস খসে হয়ে গেল। বোধহয় ফরমানটি আমার কাজে লাগল। পরে চিন্তা করলাম,
এটা তো আমি শিখলাম বানিজ্য-মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। ঈদের আগে এই মহৎ, সুন্দর মেসেজটি না আসলে বোধহয় আমার চামড়া নিয়ে বিপাকেই পড়তে হতো। হতে পারে আমার মত এমন হাজারো কুরবানি দাতা এই মেসেজটির সাহাজ্যে সন্ধা-বেলায় তাদের আসল গন্তব্য খুজে পেয়েছেন। সাবাস বানিজ্য-মন্ত্রণালয়কে।
কেন এই আলোচনার অবতারণা?
আপনি হয়তো ভাবতে পারেন, এসব লিখে আমি কেবল রম্য রচনা করছি। কিন্তু না। এখান থেকে আমি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। করোনা পরিস্থিতিতে এখন বাংলাদেশের সবগুলো মাদরাসা বন্ধ। এতে সকল শিক্ষা ব্যবস্থায় কী পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে, তা আমাদের সকলেরই জানা।
জেনারেল শিক্ষা ব্যবস্থায় তো মাশাল্লাহ্ শিক্ষকরা খুব খুশি। কোন কাজ ছাড়া মাসে মাসে নিয়মিত বেতন আসছে। আর এই ফাকে তারা কামাচ্ছে বিভিন্নভাবে আরো কত শত সম্পদ। সেটা নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নয়। তবে এখানে হয়তোবা কিছু একটার গন্ধ আছে। যুবকদের মধ্যে প্রতিপক্ষ হতে পারে কেবল ছাত্র-ছাত্রীরাই।
আর তাই যদি শিক্ষাই বন্ধ থাকে তাহলে তো কেল্লা ফতে। মাস্টাররা তো আগ বাড়বে না। কারণ, বসে বসে বেতন খেয়ে গুন না গাইলে তো মুশকিল। তাই তারা লকডাউন, শটডাউন, একুল, ওকুল, সবকুলেই চুপ বরং নিশ্চুপ। আমার কথা সেটা নিয়েও নয়। যার খাওয়া সে খাবে আপত্তি কিসের?
কিন্তু এই করোনা পরিস্থিতিতে যখন সকল মাদরাসাগুলো বন্ধ, উস্তাদদের বেতন বন্ধ তখন বানিজ্য-মন্ত্রণালয়ের এমন ফরমান বাহ্যত ভালো মনে হলেও অনেকেই তাতে ভিন্ন কিছুর ঈঙ্গিত পান। কারণ, জন সাধারণ থেকে শুরু করে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান পরযন্ত সবাই জানে এই চামড়া মাদরাসাগেুলোর বাৎষরিক একটি আয়।
সেখানে ‘মূল্যবান সম্পদ কোরবানির চামড়া, লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করবো আমরা’ কথাটির কি অর্থ হতে পারে সচেতন পাঠক মাত্রই অবগত আছেন। এজন্য আমার কাছে যেটা মনে হয়, মাদরাসাওয়ালাদের এখন দৃষ্টিভঙ্গি পালটাত হবে।
এখন চামড়া কালেকশন
বাদ দিয়ে আমার মতে গোস্ত কালেকশন করতে হবে। চামড়া
আর গোস্তের দাম এখন সমান সমান। যদিও বাজরের ন্যায্য মূল্য অনেক। তাই সামনে থেকে আমাদের
গোস্ত কালেকশন করলে বোধহয় খারাপ হয় না।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
do not share any link