বিদায় বেলা যা বললেন মুফতি মাহফুজুল হক

তাং ১৫/০৭/২০২১ইং 

আমি তোমাদের সামনে দুইটি আয়াতে কারীমা পাঠ করেছি। আয়াত দু‘টি হলো :

·        وَبَلَوْنَاهُمْ بِالْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ

·       قُل لَّن يُصِيبَنَا إِلاَّ مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا هُوَمَوْلاَنَا وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ

লম্বা চৌরা কোন কথা বলার জন্য তোমাদের সামনে উপস্থিত হইনি। খুব সংক্ষিপ্তভাবে কয়েকটা কথা বলব।

এক হচ্ছে : 

এমনিতেই মুমিনদের জন্য কর্তব্য হলো, সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করা, আল্লাহর দিকে রুজু করা। এটা সর্বাবস্থায় মুমিনের কর্তব্য। আর বিশেষ হালতে আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া, আল্লাহকে আরো বেশি স্মরণ করা এটা স্বাভাবিক। এটা আমরা সবাই বুঝি। যদিও আমলের ক্ষেত্রে অনেকেই এর থেকে গাফেল।

তো আমাদের এখন বর্তমানে দুই বিবেচনায় বিশেষ হালত। একটা বিবেচনা হলো, এখন যিলহজ্ব মাসের ১ম দশক চলছে। এটা একটা বিশেষ সময়। হাদীসে পাকের মধ্যে উম্মতকে এ সময় কাজে লাগানোর জন্য এ সময়ের গুরুত্বের প্রতি আল্লাহর রাসুল কত গুরুত্বের সাথে বলেছেন যে,

আল্লাহর নিকট নেক আমলের সবচে প্রিয় যে দিনগুলোতে সেদিনগুলো হচ্ছে, যিলহজ্বের ১ম দশ দিন। তো এটা হলো সে সময়। এজন্য এটা একটা বিশেষ হালত। যে সময়গুলোতে বান্দা আল্লাহর দিকে বেশি বেশি রুজু করবে।

আর ২য় হালত হলো : 

অবশ্যই আমাদের একেবারে স্বাভাবিক যে অবস্থা সে অবস্থা থেকে পেরেশানীর কিছু হালত এখন। এই সকল ক্ষেত্রে আমি কুরআনে কারীমের যে দুইটা আয়াত তেলাওয়াত করেছি- এ আয়াতগুলোর মর্ম যেহানে রাখা এবং উপলব্ধিতে উপস্থিত রাখা। এবং এ আয়াতগুলোর মধ্যে যে করণীয়র কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছে

সে করণীয়র দিকে বিশেষ লক্ষ রাখা যে, ঐ করণীয়গুলো আমাদের পালন হচ্ছে কি না। আয়াতের মর্ম হলো, আল্লাহ্ তায়ালা তাঁর বান্দাদেরকে ভালো অবস্থা দিয়েও পরীক্ষা করেন। আবার খারাপ অবস্থা দিয়েও পরীক্ষা করেন।আমাদের করণীয় দুই বিবেচনায়। এক তো হলো এখন যিলহজ্ব মাস চলছে সেজন্য আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া জরুরি।

আরেকটা হচ্ছে, আমরা একটা বিশেষ পরীক্ষা এবং পেরেশানীর সম্মুখীন সেজন্যও তাঁরই দিকে রুজু হওয়া। এটাই ১ম আয়াতে বলা হয়েছে- ‘লাআল্লাহুম ইয়ারজিউন’। হালাত আসলে বান্দা কী পরিমাণ পেরেশানী হবে এবং বান্দা তা থেকে মুক্ত হবে কিভাবে সে সম্পর্কে ২য় আয়াতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, মসীবত ততটুকুই আসবে যতটুকু আল্লাহ্ নির্ধারণ করে রেখেছেন। আর তা থেকে মুক্ত হবে আল্লাহর উপর ভরসা করার মাধ্যমে।

এখন আমাদের করণীয় :

১. আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া

২. আল্লাহর উপর ভরসা করা।

৩. রোযা রাখা। যিলহজ্বের জন্য এবং পেরেশানীর উদ্দেশ্যে। এক সাথে দুইটাই হয়ে গেল।

৪. পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সাথে সাথে বিশেষ নাওয়াফেলের এহতেমাম করা। যেমন : তাহাজ্জুদ, এশরাক, চাশত, যোহরের পরের দুই রাকাত নফল, আসরের পূর্বে চার রাকাত, আওয়াবিন ইত্যাদী।

৫. সাইয়েদুল ইস্তেগফার বেশি বেশি পড়া।

৬. বেশি বেশি তাকবির, তাহমিদ, তাহলীল পাঠ করা। এক সাথে এভাবে পাড়া- সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।

৭. বেশি বেশি দুআয়ে ইউনুস পাঠ করা।

৮. হালাতের মুযাকারা না করা, আলাপ-আলোচনায় সময় নষ্ট না করা।

৯. তাকওয়া অবলম্বন করা।

১০. পেরেশানী থেকে মুক্ত থাকার সহজ রাস্তা হলো, কাজে লেগে থাকা।

এ কাজগুলো যেমন আমাদের যিলহজ্ব মাসকে কেন্দ্র করে করতে হতো কারণ এটা ইবাদতের একটা বিশেষ সময় ঠিক তেমনি- বর্তমান পরিস্থিতিকেও সামনে নিয়ে এ কাজগুলোর মধ্যে আমাদের লিপ্ত থাকা জরুরী।আমার মন তৃপ্ত হবে যে কাজ করলে সে কাজে জড়ানো এখনকার কোন ভূমিকা হবে না।

আমার টার্গেট হবে যে, আমি ভালো কিছু করতে পারছি কি না। এতে মন তৃপ্ত নাও হতে পারে। আমরা বিশ বছর ধরে এটার উপরই আছি। এটার উপর থাকাকেই আমরা বেশি নিরাপদ মনে করি। আমরা এখানে বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণেই মামলা-মুকাদ্দমার মুখো-মুখি হয়েছি। আমাদের যে আইনজীবী আছেন তিনি সবসময় আমাদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন যে,

নিজেরা আগ বেড়ে কোন মামলা করার প্রয়োজন নেই। আমাদের মানসিকতাও তাই। বিশ বছর আমাদের এভাবেই চলছে। এই বিশ বছরের মধ্যে মামলা সংক্রান্ত এ জাতীয় বিষয়গুলো আমি এর আগে মাত্র একবার তোমাদের সাথে আলোচনা করেছিলাম। এখানে তোমাদের তখনকার কেউ থাকতে পারে। আর আজ সামান্য করলাম। ব্যস! এটুকুই। এগুলো আলোচনার বিষয়ই হতে পারে না।

আমার অনুভূতিটা কি? : 

দুই নাম্বার বিষয় হলো : আমার একটা অনুভূতি তোমাদের সামনে ব্যক্ত করছি। সেটা হলো, যদি কোন পরিস্থিতিতে এই মাদরাসা আমাদের ছাড়তেও হয়- তখন সেই পরিস্থিতিতে ছাড়ার পরে আমার অনুভূতি যেটা আগ থেকেই আমি অনুভব করি সেটা হলো, আমি সেই পরিস্থিতিতে আল্লাহর শোকর গুযারি আদায় করব।

এই হিসেবে যে, আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের দুর্বলদের প্রতি আমাদের দুর্বলতার কারণে এই অনুগ্রহ করলেন যে, আল্লাহ্ তায়ালা তো আল্লহর অনেক পেয়ারা বান্দাদের থেকে- দ্বীনের জন্য অনেক বড় বড় কুরবানী নিয়েছেন।কারো জান নিয়েছেন। কারো বিশাল মাল-সম্পদ দিয়ে হয়েছে। কারো আবরু-ইয্যত একদম শেষ হয়ে গেছে।

আর আমাদের শুধু একটা বিল্ডিং ছাড়তে হলো। প্রতিষ্ঠান ছাড়তে হবে না। একটা বিল্ডিং মাত্র। আর একটা বিল্ডিংয়ের কুরবানি নিয়ে আল্লাহর দ্বীনের জন্য কুরবানী কারনে ওয়ালাদের তালিকায় আমার নামটা লিখিয়ে দিলেন।

এটা আমার দুর্বলের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। আর এই বিশেষ অনুগ্রহের উপর আল্লাহর শুকর গুযারি। এটা ঐ পরিস্থিতিতে আমার অনুভূতি হবে। এটা এমনিই না। এটা দিল থেকে অনুভব করি। এবং অনুভবটারই এটা বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

ছামান নিয়ে উদ্বিগ্ন হবে না :

তোমাদের অনেকেরই এখানে ছামান আছে। এই ছামান সরানো নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হবে না। যারা মনে কর মাদরাসায় নেই তাদের সামানের কি অবস্থা হবে? তুমি শুধু তোমারটা চিন্তা করলে? তাই বলব, ছামানের ব্যাপারে এনতেশার সৃষ্টি করবে না। যা প্রয়োজন আমরাই তোমাদেরকে বলব।

সর্বশেষ বলব :

হযরত শাইখুল হাদীস রহ. এর গড়ে যাওয়া এই হালকা কোন বিল্ডিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটা বিশাল জনগোষ্ঠি এই হালকার সাথে সম্পৃক্ত। সেই বুনিয়াদটা যেন আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের দ্বারা বাকী রাখেন। কা‘বা শরীফের তো এক সময় সৌধ ছিল না। কিন্তু বুনিয়াদ ছিল।

সেই বুনিয়াদের উপরই হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম সৌধ নির্মাণ করেছিলেন। তো শাইখুল হাদীস রহ. এর ধারার সাথে কেবল এই মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক আর ফারেগীনরা জড়িত তা নয়। বরং এদেশের হাজারো মানুষ, জনসাধারণ জড়িত আছে। তাই সেই বুনিয়াদের উপর আমাদের থাকতে হবে।

কথা অনেক লম্বা হয়ে গেল। উদ্দেশ্য হলো, কিছু মুযাকারা করা। এগুলোর আমল যে আমার মধ্যে চলে এসেছে তা নয়। বরং আমি সহ আমাদের সকলকে এ কাজগুলোর উপর মজবুত থাকতে হবে। এগুলো যেন আমার আমলেও চলে আসে। আল্লাহ্ তৌফিক দান করুন। আমিন।

সংগ্রহ :

অডিও থেকে পত্রস্থ করা হয়েছে। কোথাও হুজুরের ‍মুখের শব্দই রাখা হয়েছে আবার কোথাও কিছুটা পরিবর্তনও হয়েছে। আবার সম্পূর্ণ আলোচনাও আনা হয়নি। বরং মৌলিক বিষয়বস্তুই কেবল উল্লেখ করা হয়েছে।

মুফতী মানসুরুল হক : 

হযরতের বয়ানও এ মুহূর্তে শোনা দরকার। শুনেছি, তবে এখানে বলার মত মানসিকতা নেই। এ দুয়ের মাঝে কি আকাশ-পাতাল ব্যবধান তা আপনারা যার যার অবস্থান থেকে শুনে নিবেন। ব্যস।

Post a Comment

do not share any link

নবীনতর পূর্বতন