
হযরত মাও. আব্দুল মালেক সাহেব দা. বা. বাংলাদেশের একজন সূর্য সন্তান। যিনি এদেশে মানুষের মধ্যে ইলমি জাগরণ সৃষ্টি করেছেন। দ্বীনী সর্ব বিষয়ে পারদর্শী হলেও তিনি হাদীস ও উলূমুল হাদীসকে জীবনের মাশগালা বানিয়েছেন।
আজ আমরা আলোচনা করব তার জীবনের একটি মাত্র দিক নিয়ে। আর তা হচ্ছে তিনি দরস-তাদরীসের পাশাপাশী উম্মতকে লেখনীর মাধ্যমেও কী অসাধারণ খেদমত দিয়ে যাচ্ছেন। তার প্রসিদ্ধ চার জন উস্তায রয়েছেন, যারা হযরেতের ইলমি উন্নতির পেছনে শর্ষে রয়েছেন। যাদের প্রত্যেকেই ছিলেন যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম ও শাইখুল মাশায়েখ।
১. মুফতী তাকী উসমানী হাফিযাহুল্লাহ্। হযরতের কাছে তিনি দুই বছর তাখাসসুস ফিল ইফতা করেছেন। তিনি এবং মুফতী দেলাওয়ার সাহেব হযরতের প্রিয় পাত্র।
২. শায়েখ আব্দুর রশিদ নুমানি রহ.। হযরতে কাছে তিনি হাদিস বিষয়ে পড়া শোনা করেছেন। শুনেছি নুমানি রহ. নাকি তাকে লক্ষ করে বলতেন, 'ইয়ে হামারা লোনডা হ্যায়'। নুমানি সাহেব রহ. তাকে অনেক মহাব্বত করতেন।
৩. মাওলানা আমিন সফদর রহ.। হযরতের কাছ থেকে পাকিস্তান থাকা কালে তিনি বিভিন্ন ভাবে ইলমি ইস্তিফাদা করেছেন।
৪. শায়েখ আব্দুল ফাত্তাহ্ আবু গুদ্দাহ্ রহ.। হযরতের কাছে তিনি সৌদিতে প্রায় দুই বছর ছিলেন। শায়েখ রহ. তাকে নিজের তাসনিফের কাজে পাকিস্তান থেকে নিয়ে যান। আল মাদখাল কিতাবটি সৌদিতে যাওয়ার পর লিখেছেন।
হযরত দা. বা. সম্পর্কে মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ্ দা. বা. বলেন,
তাঁর সম্পর্কে এতটুকু বলাই যথেষ্ট যে, তিনি আব্দুল মালিক। যারা ইসেম অতিক্রম করে মুসাম্মায় যেতে চান তাদেরকে বললো তাঁর লেখা আল মাদখাল ইলা উলুমিল হাদিস পড়ুন। আর যারা মুসাম্মা অতিক্রম করে সনদ ও মুসনাদের উর্দ্ধস্তরে যেতে চান তাদের জন্য এতটুকুই জানা যথেষ্ট যে, শায়েখ আব্দুল ফাত্তাহ্ এক পত্রে তাকে লিখেছেন,
لا تغفلوا عن محبكم الذي دخل إلى قلبكم ودخلتم قلبه
মাসিক আল কাউসার; যিলক্বদ, ১৪৩৫ হি. পৃ. ৯।
তার এসকল রচনার সংখ্যাও মাশাআল্লাহ্ কম নয়। আস্চর্য লাগে এমন একজন নীরব সাধক এত এত কাজ করেন কিভাবে? আসলে আল্লাহ্ তায়ালা তাকে এই কাজের জন্য বাছাই করেছেন তাই সম্ভব হয়েছে। তো চলুন আমরা এক নজরে তার ইলমী খেদমতটুকু দেখে নেই। এ পর্যন্ত তিনি প্রকাশিত অপ্রকাশিত অসংখ্য কিতাব লিখেছেন, যা আহলে ইলমের সকলেরই জানা উচিৎ এবং যথাসাধ্য সংগ্রহ করা উচিৎ।
রচনাবলীর একটি তালিকা :
১. আল-মাদখাল ইলা উলুমিল হাদীসিস শরীফ। প্রকাশিত।
২. এসব হাদীস নয়। প্রকাশিত।
৩. তালিবানে ইলমের পথ ও পাথেয়। প্রকাশিত।
৪. নবীজীর নামায কিতাবের ভূমিকা ও পরিশিষ্ট। প্রকাশিত।
৫. হাদীস ও সুন্নাহয় নামাযের পদ্ধতি। প্রকাশিত।
৬. বিশ রাকাত তারাবীহ্। প্রকাশিত।৭. রাহে মানযিল। প্রকাশিত।
৮. ঈমান সবার আগে। প্রকাশিত।
৯. একই দিনে ঈদ। প্রকাশিত।
১০. তাসাওউফ তত্ত্ব ও বিশ্লেষণ। প্রকাশিত।
১১. কাবলাল জুমআ‘। প্রকাশিত।
১২. আল-কুরআনুল কারীম হক ও আদাব। প্রকাশিত।
১৩. ওয়াহ্দাতুল উম্মাহ্ ওয়া ইত্তিবাউস সুন্নাহ্। প্রকাশিত।
১৫. আল্লামা ইবনুল মুবারক রহ. কৃত কিতাবুল জিহাদের উপর একটি গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা। প্রকাশিত।
১৬. প্রচলিত ভুল। প্রকাশিত।
১৭. উসূলে ইফতার শরাহ্ আল-ফাতহুর রব্বানির উপর একটি সংক্ষিপ্ত তাকরীয। প্রকাশিত।
১৮. শরহে নুখবার শরাহ্ তানকীহুল ফিকর। অপ্রকাশিত।
১৯. আল-ওয়াজিয ইলা মা‘রিফাতি উলুমিল হাদীস। প্রকাশিত।
২০. নাযরাতুন আবিরাহ্ হাওলা তানকীলিল ইয়ামানি। অপ্রকাশিত।
২১. আবু হানীফা আল-মুফতারা আলাইহি। অপ্রকাশিত।
২২. আউনুল মুগীছ বি তাইসিরি ওয়া তাতমীমি ফাতহিল মুগীছ। অপ্রকাশিত।
২৩. মুকাদ্দিমায়ে ইবনুস সালাহ্ এর উপর তার আমালী ‘আল-ওয়াসীত’। অপ্রকাশিত।
২৪. আল-হাদইয়ুল মুনীফ লি তলাবাতিল হাদিসিস শরীফ। অপ্রকাশিত।
২৫. আল-মাকাসিদুল হাসানাহ্ এর উপর একটি বড় যাইল। অপ্রকাশিত।
আল্লাহ্ তায়ালা হযরতকে দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন। আমিন।
উত্তরমুছুনআমিন ইয়া রব্বাল আলামিন।
উত্তরমুছুনএকটি মন্তব্য পোস্ট করুন
do not share any link