শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ্ আবু গুদ্দাহ্ একটি নাম, একটি বৈশিষ্ট

আমরা যারা হানাফী মাযহাবের অনুসারী বলে দাবি করি, আমাদের সকলেরই জানা থাকা দরকার যে, শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ্ আবু গুদ্দাহ্ রহ. হলেন হানাফী মাযহাবের একজন ব্যরিস্টার। তাকে বাদ দিয়ে কিংবা কার তার ইলমি খেদমতকে এভোয়েট করে হানাফী দাবি করার কোন সুযোগ নেই।
 
শুধু হানাফী বলে কথা নয়, সকল মাযহাবের সকল মানুষ এবং উলামায়েকেরাম তার ইলমি খেদমতের কাছে দায়বদ্ধ। তিনি শায়খ যাহেদ কাওছারী রহ. এর একজন ভক্ত ও সূর্য সন্তান। আকাশের নক্ষত্রতুল্ল এই বিদগ্ধ মণীষীর জন্ম ১৩৩৬ হি.। আর ইহলোক ত্যাগ করেন ১৪১৭ হিজরীতে।

মুফতী তাকী উছমানী দা. বা. এর মন্তব্য : 

হযরত মাওলানা মুফতী তাকী উসমানী দা. বা. বলেন, শায়েখ আমাকে ‘তুফ্ফাহাতুল হিন্দ ওয়া বাকিস্তান’ (হিন্দ ও পাকিস্তানের আপেল) উপাধি দিয়েছেন। এবং আমাকে লক্ষ করে বলেছেন, ‘লাও কুনতা তুফ্ফাহাতান লাআকালতুকা’ যদি তুমি আপেল হতে তাহলে তোমাকে আমি খেয়ে ফেলতাম।

মুফতী তাকী উসমানী দা. বা. আরো বলেন, তিনি শায়েখ যাহেদ কাওছারী রহ. এর শাগরিদ তবে তাঁর আলাদা কিছু বৈশিষ্ট ছিল আর তা হচ্ছে, তিনি হানাফী মাযহাবের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও মাযহাবের প্রাধান্যতা বা কোন দলীলসমৃদ্ধ আলোচনা করলে কখনোই প্রতিপক্ষকে আঘাত করতেন না।

বরং সুন্দর, সাবলীলভাবে হ্রদ্যতাপূর্ণ আচরণের সাথে ইলমী আলোচনাগুলো তুলে ধরতেন। বর্তমানে আমাদের জন্য যা খুবই বিরল। শায়েখ আব্দুল ফাত্তাহ্ আবু গুদ্দাহ্ রহ. এর ভাতিজা আব্দুস সাত্তার আবু গুদ্দাহ্ বলেন,

মৃত্যুর আগে তিনি বেহুশ থাকলে হঠাৎ তাঁর হুশ ফিরে আসে এবং তখন তাঁর সর্ব প্রথম কথা ছিল ‘প্রেস থেকে কিতাব কি ছেপে এসেছে’? অত:পর তিনি আবার বেহুশ হয়ে পড়েন এবং ৯ই শাওয়াল ১৪১৭ হি. তে তিনি ইন্তেকাল করেন। রহিমাহুল্লাহু তায়ালা। আল্লাহ্ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন এবং তাঁর রেখে যাওয়া ইলমী কারনামা থেকে আমাদের সকলকে ইস্তেফাদা করার তৌফিক্ব দান করুন। আমিন।

তাঁর জীবনী জানতে নিম্নের কিতাবগুলো দেখা যেতে পারে
১. ‘নুকুশে রফতেগাঁ’ মুফতী তাকী উসমানী দা. বা.
২. 'শাখসিয়্যাত ওয়া তাআসসুরাত’ মাও. ইউসুফ লুধিয়ানবী রহ.
৩. 'সাফাহাত মিন সাবরিল উলামা’ এর ভূমিকা
৪. তাঁর তাহকীক্ব কৃত ‘লিসানুল মিযান’ এর ভূমিকা
৫. 'ইমদাদুল ফাত্তাহ্ বি আসানিদা ওয়া মারবিয়্যাতিশ শাইখ আব্দিল ফাত্তাহ্ আবী গুদ্দাহ্’ কিতাবটি

আল্লাহ্ তায়ালা হযরতকে জান্নাতের আ'লা মাকাম দান করুন। তার ইলমি খেদমত থেকে আমাদেরকে বেশি বেশি উপকৃত হওয়ারর তৌফিক দান করুন। আমিন ইয়া রব্বাল আলামিন।

তার লিখিত কিছু কিতাব :
১. আর রফউ ওয়াত তাকমীল ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
২. আল আজবিবাতুল ফাযিলা লিল আসইলাতিল আশারাতিল কামিলা
৩. রিসালাতুল মুস্তারশিদীন
৪. ফাতহু বাবিল ইনায়াহ্
৫. আল মানারুল মুনিফ ফিস সহীহ্ ওয়ায যয়ীফ
৬. আল মাসনূ ফি মারিফাতিল হাদিসিল মওযূ
৭. ফিকহু আহলিল ইরাক ওয়া হাদিসুহুম
৮. খুলাসাতু তাযহিবি তাহযিবিল কামাল
৯. সফাহাত মিন সবরিল উলামা
১০. কাওয়ায়েদ ফি উলুমিল হাদিস
১১. কাইদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
১২. আল মুতাকাল্লিমুন ফির রিজাল
১৩. আল উলামাউল উয্যাব আল্লাযিনা আছারুল ইলমা আলায যিওয়াজ
১৪. কিমাতুয যামান ইনদাল উলামা
১৫. আল মুকিযাহ্ ফি ইলমি মুস্তালাহিল হাদীস
১৬. লামাহাত মিন তারিখিস সুন্নাহ্ ওয়া উলুমিল হাদিস
১৭. আল ইন্তিকা ফি ফাযাইলিল আইম্মআতিস সালাসাতিল ফুকাহা
১৮. সুনানে নাসাঈ
১৯. উমারাউল মুমিনিন ফিল হাদিস
২০. তাওজিহুন নযর ইলা উসুলিল আছার
২১. আল ইসনাদ মিনাদ দ্বীন
২২. তাহকীকু ইসমাইস সহীহাইন
২৩. মিন আদাবিল ইসলাম
২৪. যফারুল আমানি ফি মুখতাসারিস সাইয়িদ শরীফ আল জুরজানী
২৫. কাশফুল ইলতিবাস আম্মা আওরদাহুল বুখারী আলা বাযিন নাস
২৬. কিতাবুল কাসব
২৭. সালাছু রাসায়েল
২৮. আরবাউ রাসায়েল
২৯. খমসু রাসায়েল
৩০. আর রসুলুল মুআল্লিম ওয়া আসালিবুহু ফিত তালিম
৩১. মাকানাতু আবী হানীফাহ্ ফিল হাদীস
৩২. আল ইমাম ইবনু মাজাহ্ ওয়া কিতাবুহুস সুনান
৩৩. লিসানুল মিযান
৩৪. মাবাদিউ ইলমিল হাদিস ওয়া উসুলিহী
৩৫. কাওয়ায়েদ ‍ফি উলুমিল হাদীস
৩৬. সালাছু রাসায়েল ফি ইস্তিহবাবিদ দুআ
৩৭. কফউল আছার ফি সফবি উলুমিল আছার

ইত্যাদী ইত্যাদী। এগুলোর মধ্যে অধিকাংশই হযরতের তাহকীক, তালীক কৃত। আর কিছু আছে হযরতের নিজেরই লিখিত। আল্লাহ্ তায়ালা আমাদেরকে হযরতের কিতাবগুলো বেশি থেকে বেশি ইস্তেফাদা অর্জন করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

Post a Comment

do not share any link

নবীনতর পূর্বতন