হাদীস শাস্ত্রে ইমাম আবূ হানীফা রহ. এর অবদান (কিতাবুল আছার ইতিহাস, ঐতিহ্য, অবদান)
মুফতী সাঈদুর রহমান সিদ্দীক নাটোরী, খাদেমে দারুল ইফতা ও শিক্ষাসচিব- মারকাযুল উলূমিদ্ দ্বীনিয়্যাহ্, ভেলানগর, (জেলখানার মোড়), নরসিংদী, বাংলাদেশ।
উৎসর্গ :
যিনি ছিলেন ইসলামের ইতিহাসে এক উজ্জল নক্ষত্র। যার গুণাগুণ, গভীর জ্ঞান, অসাধারণ বিচক্ষণতা ও অভূতপূর্ব গবেষণার চমক ছিলো জগতনন্দিত ও সর্বজন স্বীকৃত। সে যুগের বিশিষ্ট মুহাদ্দিস, ফক্বীহ্, মুফাস্সির ও যুগশ্রেষ্ঠ ইমামগণ পর্যন্ত যার সমাধান, মতামত ও ফাতাওয়ার প্রতিক্ষায় থাকতেন।
মুসলিম উম্মাহর উপর যার ইহ্সান অপরিসীম। যিনি ইমাম চতুষ্টয়ের একজন। ইমামুল আইম্মাহ্, সিরাজুল উম্মাহ্, ফক্বীহুল মিল্লাহ্, ইমামে আ‘যম আবূ হানীফা রহ. এর রুহ্ মোবারকে। আল্লাহ্ তায়ালা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের আ‘লা মাকাম দান করুন।
সাথে সাথে যে সকল নাদান ভাইয়েরা তাঁর সাথে শত্রুতা কিংবা বিদ্বেষ পোষণ করে থাকে, অথবা অহেতুক গালিগালাজ করে তাঁর ইলমী মানসাবকে নষ্ট করার মত নোংড়া কাজে লিপ্ত
দুআ করি আল্লাহ্ তাদেরকে হেদায়াত দান করুন এবং দ্বীনের সহীহ্ বুঝ দান করুন। আর কেয়ামত পর্যন্ত ইমামে আ‘যমের এই মাযহাবকে সদা কায়েম ও দায়েম রাখুন। আমীন। ইয়া রব্বাল আলামীন।
-লেখক
প্রারম্ভিকা :
الحمد لله رب العالمين والصلوة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين. أما بعد
বর্তমানে গাইরে মুকাল্লিদ বা সালাফী ভাইদের অনেকেই মাযহাব চতুষ্টয়ের উপর বিষোদগার করে থাকেন। উক্ত চার মাযহাবের মধ্যে সব চাইতে মযলূম ইমাম হলেন ইমামে আ‘যম আবূ হানীফা রহ.।
সালাফী ভাইদের মতে ইমাম আবূ হানীফা রহ. হাদীসের কোনই জ্ঞান রাখতেন না। (নাঊযুবিল্লাহ)। যে কারণে তাদের মতে তিনি ইমাম হওয়ারই যোগ্য নয়। তাই আমি এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে হাদীস শাস্ত্রে ইমামে আ‘যম রহ. এর অবদান নিয়ে যৎসামান্য আলোচনা করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ্।
আর হ্যাঁ, প্রত্যেক আলোচনার শেষে হাওলা উল্লেখ করা হয়েছে। আগ্রহী পাঠক যেন তা মুরাজাআ‘ত করতে পারেন। প্রায় পাঁচ বছর যাবৎ আমি আল্লামা আব্দুর রশীদ নু‘মানী রহ. কৃত ‘আল-ইমাম ইবনু মাজাহ্ ওয়া কিতাবুহুস্-সুনান’ কিতাবটি তাখাস্সুসের তালিবুল ইলমদেরকে খারেজী ভাবে দরস দিয়ে আসছি।
আলহামদুলিল্লাহ্ এতে করে ছাত্রদের থেকে আমার ফায়দাটাই বেশী হয়েছে। তবে চেষ্টা করেছি তারাও যেন নু‘মানী রহ. এর তুরাছ থেকে বঞ্চিত না হয়। সেহিসেবে আমি আমার সাধ্যানুযায়ী উন্মুক্ত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। উক্ত কিতাবের ৫০-৬০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত ইমামে আ‘যম আবু হানীফা রহ. সম্পর্কে লেখক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন।
আমি সেই আলোচনাগুলোই একটু গুছিয়ে বিভিন্ন হাওলার মাধ্যমে তাদের সামনে পেশ করার চেষ্টা করতাম। এক পর্যায়ে তারা উক্ত বিষয়গুলো সংক্ষিপ্তাকারে লিখে দেওয়ার আবেদন করে।
বিষয়টি আমার কাছেও পছন্দ হলো। তাই সংক্ষিপ্তাকারে সেগুলো জমা করতে লাগলাম। আলহামদুলিল্লাহ্ এখন তা পাঠকের সামনে। ভাল-মন্দ তারাই নির্ণয় করবেন ইনশাআল্লাহ। দুআ‘ করি আল্লাহ্ তায়ালা যেন আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াসকে কবুল করেন, মাকবুল করেন। এবং আখেরাতে তা আমাদের জন্য নাজাতের যরিয়া বানান। আমীন।
মুহাম্মদ সাঈদুর রহমান সিদ্দীক নাটোরী
১৬ই রজব ১৪৪২ হি., ১লা মার্চ ২০২১ ইং
এক নযরে প্রবন্ধের শিরোনামগুলোঃ
* ইমামে আ‘যম আবূ হানীফা রহ. হাদীসের প্রথম সংকলনকারী এবং তাঁর লিখিত কিতাব ‘কিতাবুল আছার’ হাদীসের সর্ব প্রথম কিতাব
* ইমামে আ‘যম আবূ হানীফা রহ. এর দিকে ‘কিতাবুল আছার’ এর সম্বন্ধ কি সহীহ্ নয়?
* ‘কিতাবুল আছার’ এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
* কিতাবুল আছারের নুস্খাসমূহ
* হাদীস বর্ণনায় ইমাম আবূ হানীফা রহ. এর মানহাজ ও শর্তসমূহ
* কিতাবুল আছারের উপর উম্মতের উলামায়েকেরামের কিছু খেমদত এবং এছাড়াও ইমাম আবূ হানীফা রহ. এর মাসানীদ সহ তার আরো কিছু সংকলনের আলোচনা
* কেমন ছিলেন ইমামে আ‘যম আবূ হানীফা রহ.? হাদীসের কিতাব লেখার যোগ্যতা কি তার ছিল?
الحمد لله رب العالمين والصلوة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين. أما بعد
ইমামে আ‘যম আবূ হানীফা রহ. হাদীসের প্রথম সংকলনকারী এবংতাঁর লিখিত কিতাব ‘কিতাবুল আছার’ হাদীসের সর্ব প্রথম কিতাব ঃ
জানা উচিৎ যে, উলামায়ে কেরামের মধ্য থেকে যারাই হাদীস সংকলনের ইতিহাস লিখেছেন তাদের প্রায় সকলেই ইমাম মালেক রহ. কে হাদীসের প্রথম সংকলনকারী বলেছেন। মাঝখান থেকে ইমামে আ‘যম আবূ হানীফা রহ. এর আলোচনা সম্পূর্ণ পরিহার করে চলেছেন। এর কারণ সম্ভবত এটাই যে, তারা ইমাম আবূ হানীফা রহ. রচিত ‘কিতাবুল আছার’ কে হাদীসের কিতাব হিসেবে গণ্য করেন না।
আবার কেউ কেউ ‘তাআস্সুব’ বা গোড়ামীর কারণেও এরুপ করে থাকতে পারেন। কিংবা পরবর্তীগণ পূর্ববর্তীদের তাকলীদ করে বলে দিয়েছেন। বাস্তবতা তালাশ করে দেখেননি বা সুযোগ পাননি। অবশ্য কিছু মুনসিফ উলাময়ে কেরাম অকপটে এই সত্যটি স্বীকার করে গেছেন।
হাফেয সুয়ূতী রহ. বলেন, ‘শরীয়তের ইলম ফিক্বহী অধ্যায়ে সুবিন্যস্ত করে সর্বপ্রথম সংকলন করেছেন ইমামে আ‘যম আবূ হানীফা রহ.। এক্ষেত্রে মুআত্ত্বা সংকলনে ইমাম মালেক রহ. এবং ‘জামে‘’ সংকলনে সুফিয়ান ছাওরী রহ. হলেন তাঁর অনুগামী।’
আগামী পর্বে পড়ুন- এর উপর আপত্তি ও তার জবাব এবং দলীলসমৃদ্ধ বিস্তারিত আলোচনা।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
do not share any link