
আল্লামা মধুপুরী দা. বা. এর একটি চমৎকার মুনাজাত ঃ
দুআ‘ হলো, সকল ইবাদতের মূল, মুমিনের হাতিয়ার। হাদীস শরীফে দুআ‘কে বলা হয়েছে সকল ইবাদতের মগজ। কেউ যদি কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে কোন কিছু চাইতে পারে মহান আল্লাহ্ তার বান্দার উপর দয়ার হাত প্রসারিত করে দেন।
আর বান্দাদের মধ্যে আল্লাহর এমন কিছু প্রিয় বান্দা আছে তারা আল্লাহর কাছে চাইতে দেরি হয় কিন্তু আল্লাহ্ তা দিতে দেরি করেন না।হযরত হাফেজ্জী হুযুর রহ. এর ঘটনা প্রসিদ্ধ আছে যে, তিনি সালাতুল ইস্তেসকার নামাযে দাঁড়িয়ে সেজদায় যাওয়ার আগেই মহান আল্লাহ্ তার রহমতের বৃষ্টি দ্বারা সিক্ত করেছিলেন।
দুনিয়াতে মা-বাবাও দুআ‘ কবুলের সবচাইতে বড় ক্ষেত্র। তারাও মহান রবের কাছে হাত উঠালে আল্লাহ্ তাদের হাত খালি ফেরৎ দেন না। তবে দুআর কিছু ভাষা বা শব্দ আছে। দুআ‘র ভাষা যদি কুরআন-হাদীসের ভাষা হয় তাহলে তো কোন কথাই নেই। এছাড়াও আমাদের আকাবিরদের জীবণীতে দেখা যায় তাদের দুআ‘র মধ্যে বিশেষ এক নূরানিয়্যাত ছিল।
তাদের দুআ‘ ছিল জানদার এবং শানদার। ঠিক তদ্রুপ তাদেরও দুআ‘র আলাদা শব্দ ছিল। সেই শব্দগুলো আসলেই অনেক দামী। সেগুলোর মধ্যে ভিন্ন রকম রুহানিয়্যাত পাওয়া যায়। আমরা আমাদের দুআ‘তে যদি সেই দুআ‘গুলোকে জুড়ে দেই তাহলে আমরাও আশাবাদি যে, আমাদের দুআ‘ ইনশাআল্লাহ্ মাকবুল।
তাই আজ আমরা আমাদের যুগের বয়জৈষ্ঠ মুরব্বি, উলামায়ে কেরামের মাথার তাজ আল্লামা আব্দুল হামিদ মধুপুরি দা. বা. এর মুনাজাতটি পাঠকের সামেন উল্লেখ করছি। আল্লাহ্ হযরতকে দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন। সুস্থতার যিন্দেগী নসীব করুন। সকল অনিষ্টতা ও খারাবী থেকে হেফাযত করুন। আমীন। ইয়া রব্বাল আলামিন।
তামামী
তা‘রীফ জানো সেই যে খোদার,
ভিখারিকে দিয়েছ যে দুআ‘র অধিকার।
দরুদ ও সালাম পাঠাই আমি
নবীরও উপর,
শফীউল মুযনিবীন যিনি হাবীবো আল্লাহর।
রহমান ও রহীমও আল্লাহ্
তোমারও করমে,
খালাছিরও আশায় আছি আমরা গুনাহগার।
খালিকও মালিকও আল্লাহ্ পাক
পরওয়ারদেগার,
সকলি করিতে পার কুদরতে তোমর।
দয়ারও সাগর তুমি মালিকও
মুখতার,
রহমও করম কর মালিকও আমার।
গুনাহগারের তরে যদি করিয়া
দাও পার,
কেহ কি বলিতে পারে কি শক্তি কার।
কিভাবে কি শুরে আমি বলিব মোর
গরজ,
রীতিনীতি নাহি জানি করিতে আরজ।
যেভাবে মকবূল হয় আরজু আমার,
সেভাবে দিও তৌফিক্ব দুআ‘ করিবার।
দোস্তেরও কুকুর জাইনো
দোস্তেরও দুয়ারে,
লাঠি ডান্ডা মারিযা তাড়িওনা আমারে।
তাড়াইলে ফিরে আসব কুকুর যে
তোমার,
দয়াল মাবূদ দয়া কর দুহাই তোমার।
খালি হাতে আসিয়াছি দরবারে
তোমার,
গুনাহ্ ছাড়া কোন কিছু নাই যে
আমার।
কর কি না কর কবূল ধরেছি
দামান,
জীবনে মরণে আল্লাহ্ না হবে
ছাড়ন।
তুমি ছাড়া কার কাছে করিব
রোদন,
তুমি বিনে কে বুঝিবে আমারও বেদন।
আল্লাহ্ তায়ালা আমাদেরকে তাঁরই কাছে চাওয়ার তৌফিক্ব দান করুন এবং দুআ‘ কবুলের ভাষাও যেন শিখতে পারি এবং কায়মনোবাক্যে দুআ‘ করতে পারি। আমিন।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
do not share any link