
ন্যায় নীতি ও ইনসাফের অভূতপূর্ব কাহিনী
দুই মেয়ের গল্প! দু‘জনেরই ছিল দু‘টি সন্তান। সন্তান দু‘টি ছেলে না মেয়ে তা অবশ্য আমাদের জানা নেই এবং জানার দরকারও নেই। ঘটনাটা কি সেটাই আমরা শুনব।ছোট্ট একটি বাড়ীতে বাস করত তারা দুজন। হয়তো বাড়ীটি কোন জংগলের পাশে ছিল।
এক দিন হলো কী! একটি বাঘ আসলো তাদের বাড়ীতে। বাড়ীতে কেউ নেই। কে জানে পাশের বাড়ীতে গল্প করতে গিয়েছে কি না। বাড়ীতে আছে শুধু কোলের ফুটফুটে দু‘টি সন্তান। নিশ্চিন্তে আরামে ঘুমিয়ে আছে তারা।
বাড়ী খালী দেখে বাঘের খুশি যেন উপচে পড়ছে। এই তো সুযোগ। এই ফাকে একটি সন্তান নিয়ে গেলে আর ঠেকায় কে? যা ভাবনা তাই কাজ। বাচ্চা একটা নিয়ে দে ছুট। আর ধরে কে? কিছুক্ষণ পর ঘরে মা এসে দেখে সন্তান নেই। রক্তে বিছানা লাল হয়ে আছে। বুঝতে বাকি নেই এটার বাঘের কান্ড। এখন উপায় কি? ব্যথায় কাঁদবে?
না, মাথায় বুদ্ধি এসেছে তার । চট করে বলে ফেলল, সন্তান যেটা বাঘে নিয়ে গেছে সেটা তোমার ছিল। এটি আমার সন্তান। ‘অসম্ভব! তোমার সন্তান বাঘে নিয়ে গেছে এখন আমার সন্তান নিতে চাচ্ছ? এ হতে পারে না’ -বলল অপর মেয়েটি। এবার প্রথম জন বলল, ঠিক আছে আল্লাহর নবী হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের কাছে চলো। তিনিই আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দিবেন। তাহলে হবে তো?
উত্তরে ২য় জন বলল, হ্যাঁ, তাই হবে। চলো যাই। ঘটনার বিবরণ শুনে হযরত দাঊদ আলাইহিস সালাম ফায়সালা করলেন। বললেন- বড় মেয়ে যেহেতু সন্তানটি নিজের দাবি করছে এবং ছোট জনের পক্ষে কোন প্রমাণও নেই তাই সন্তানটি বড় জনের। কিন্তু সন্তান তো আসলে ছোট জনের, তাই বিচার নিয়ে গেলেন হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের কাছে। হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম হলেন হেকমতের নবী।
বড় জ্ঞানী ও দুর্দর্শী। তাই বললেন, তোমরা একটি চাকু নিয়ে আসো। সন্তানটিকে অর্ধেক করে তোমাদের দু‘জনকে ভাগ করে দেই। বড় মেয়েটি এবার বেজায় খুশি। ভালই হলো। আমার সন্তান তো বাঘেই নিয়ে গেছে। এখন তার সন্তানও শেষ হয়ে যাবে। কারোরই কোন সন্তান থাকবে না। আহা! কী মজা হবে! ওহ! বড়ই আনন্দ হবে।
তাই সে বলল, হ্যাঁ, তাই করুন। সন্তানের অর্ধেক আমাকে দিয়ে দিন। কিন্তু সন্তান যার মায়া তো তার। নিজের জীবন গেলেও সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখতে চান মা-জননী। তাই ছোট জন বলল, না, হুযূর! এ হতে পারে না। সন্তান ওকেই দিয়ে দিন। তবুও আমার সন্তান বেঁচে থাকুক।
এতক্ষণে আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের আর বুঝতে বাকি নেই যে, সন্তান মূলত: ছোট মেয়েটির। বড় জন তার মিথ্যা দাবি করছে। তাই ছোট জনকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আমি বুঝতে পেরেছি, সন্তানটি আসলে তোমার। নাও! তোমার সন্তান তুমি নিয়ে যাও। মা এবার সন্তান নিয়ে আনন্দে বাড়ী ফিরলেন।
পরিশেষে
উক্ত ঘটনা থেকে আমাদের জন্য রয়েছে অনেক শিক্ষা। কি কি শিক্ষা থাকতে পারে কিংবা আপনার পছন্দ হতে পারে কমেন্টে জানাতে পারেন। সবচাইতে বড় কথা হলো এটি হাদীসের গল্প। আমরা কত রকমের আজগুবি গল্প বলি এবং শুনি। তাই আসুন আমরা হাদীসের গল্প বলতে শুরু করি। আমাদের বাচ্চাদেরকেও আমরা এ জাতীয় হাদীসের গল্প শুনিয়ে মুগ্ধ করতে পারি।
(সহীহ্ বুখারী, ২৪২৭, সহীহ্ মুসলিম, ১৭২০)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
do not share any link