মাযহাব, তাকলিদ ও আলবানী সাহেবের এপিঠ ওপিঠ ঃ

ঘটনাটি বড়ই হাস্যকর এবং ক্রন্দনোদ্দিপক। বর্ণনা করেছেনে আবর বিশ্বের বিখ্যাত আলেম শাখয়খ আওয়ামা দা. বা.। তিনি বলেন, ১৩৯৮ হিজরীতে আল্লামা আব্দলু আযিয রহ. আমাকে বললেন, একবার যোহরের আযানের পূর্বে আমার সামনে একজন অপরিচিত লোক মসজিদে প্রবেশ করল। লোকেরা আমাকে তার নাম বলল, নাসিরুদ্দীন আলবানী। তিনি বসে আযানের অপেক্ষা করছিলেন। ইতিমধ্যে মুআযযিন আযান শুরু করল।

মুআযযিন যখন ‘আল্লাহু আকবার’ শব্দের ‘র’ অক্ষরে যবর দিয়ে তথা ‘আল্লাহু আকবারা’ পড়ল, তখনই শায়েখ বেচারা প্রচন্ড ক্রোধ মিশিয়ে বলে উঠল, এটা ভুল, এটা বেদআত। আমি (আব্দুল আযিয) তখন বিনয়ের সাথে জিজ্ঞাসা করলাম, এটা ভুল ও বেদআত হওয়ার কারণটাকি জানতে পারি? তিনি বললেন, কারণ, তা সহীহ্ মুসলিমের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। আমি বললাম,

এটা বিভাবে সাংঘর্ষিক জানতে পারি? তিনি বললে, সহীহ্ মুসলিমে ‘র’ অক্ষরে পেশ দেয়া আছে।আর মুআযযিন সাহেব তাতে যবর দিয়ে পড়েছে। আমি এবার আরো বিনয় ও আদবের সাথে বললাম, সহীহ্ মুসলিমের এই হাদীসটি আপনার শায়েখ থেকে ধারাবাহিক সূত্র পরম্পরায় ইমাম মুসলিম রহ. পরযন্ত ‘র’ অক্ষরে পেশ দিয়েই পড়েছেন না কি তা প্রকাশনার পক্ষ থেকে দেয়া হরকত? এর কোন উত্তর তিনি না দিতে পেরে চুপ হয়ে গেলেন। আমিও চুপ থাকলাম। এরপর তিনি নামায পড়ে চুপচা বের হয়ে গেলেন। (আছারুল হাদিসিস শরীফ পৃ. ৫১)

উদ্দেশ্য কি?

ঘটনাটি উল্লেখ করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, যে ভাইয়েরা কথায় কথায় হানাফী মাযহাবকে দোষারোপ করে থাকেন, হাদীস শাস্ত্রে ইমাম আবু হানীফাকে অজ্ঞ বলে বেড়ান তাদেরকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা যে, এমন দৈন্য দশা যে শায়েখের তার অনুসরণ করার চাইতে সালাফের দিকে রুজু করা কতই না শ্রেয়!

আপনারাও শায়েখ মানছেন এবং তার অনুসরণ করে চলছেন যাদের যিন্দেগীর বয়সের চাইতে ভুলের ফিহরিস্তই বেশি। তাহলে এমন মুখে কি আরকজনের বিরুদ্ধাচরণ মানায়? কেন আপনি জানতে চান না যে, আলবানী সাহেবের পিতা নূহ্ নাজাতী একজন কট্টোর হানাফী ছিলেন। (আল-ইত্তেজাহাতুল হানাফিয়্যাহ্ ফিল কারনির রাবি‘ আশার, পৃ. ২৩২)

তাকলিদ করায় তাহলে তার পিতা কি গুমরাহ্ ছিলেন? আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এমন কাঁচা কেন বলুন তো? আমরা কি পারি না আমাদের পরস্পরের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে? এখানে হিজরী ৩য় শতাব্দির একটি চমৎকার ঘটনা পাঠকের সামনে পেশ করাকে অত্যন্ত জরুরী মনে করছি। বিশিষ্ট মুহাদ্দিস ও ফক্বিহ্ আল্লামা আবু বকর জুযাজানী রহ. এর যুগের ঘটনা।

একবার হানাফী মাযহাবের অনুসারি একজন ব্যক্তি জনৈক গাইরে মুকাল্লিদের মেয়েকে বিবাহের প্রস্তাব করল। তখন মেয়ের পিতা তাকে মাযহাব ছেড়ে দিয়ে ইমামের পিছনে কেরাত পড়া এবং নামাযে রফে‘ ইয়াদাইন করার শর্ত করল।

এতে হানাফী মাযহাবের অনুসারী ব্যক্তি সম্মতি জানালো এবং বিয়ে হয়ে গেল। এঘটনা সম্পর্কে তখন আল্লামা জুযাজানীকে জানানো হলে তিনি বললেন, বিবাহ তো বৈধ হয়েছে তবে তার ঈমান চলে যাওয়ার আশংকা আছে। (ফতোয়ায়ে শামী, ৬/১২৮, বাবুত-তা‘যির, মাকতাবায়ে থানবী।)

সবশেষে :

তো আমাদের বুঝার বিষয় হলো, তাকলিদের বিষয়টি সালাফের কাছে কেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল। হ্যাঁ, যাদের বাস্তবেই ইজতেহাদের যোগ্যতা রয়েছে তাদের কথা তো অবশ্যই ভিন্ন। কিন্তু জন সাধারণের জন্য তাকলিদ ছাড়া ভিন্ন কোন পথ নেই। তো আজকে আমি বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না। বরং আলবানী সাহেবের উপরোক্ত ঘটনা উল্লেখের দ্বারা মৌলিক উদ্দেশ্য হলো, আহলে হাদীস তথা গাইরে মুকাল্লিদ ভাইদেরকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা যে, কেউই ভুলের উর্দ্ধে নয়। 

কিন্তু ভুল হলেই তিনি আসমান থেকে যমিনে পড়ে যান না। বরং সৌভাগ্য তো সেই যার ভুল গণনা করা হয়। তাই আসুন আমরা আমাদের মধ্যে কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি বন্ধ করি এবং পরস্পরের মাঝে ঐক্য গড়ে তুলি। আল্লাহ্ সহায় হোন। আমিন।

Post a Comment

do not share any link

নবীনতর পূর্বতন