অনলাইনে বিবাহ : (how to do nikah online)
প্রশ্ন : ছেলে প্রবাসে থাকে। এখন চাচ্ছে যে, দেশের কোনো মেয়েকে বিবাহ্ করবে। এক্ষেত্রে বিবাহের সঠিক পদ্ধতি কি?

উত্তর :
বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হল দু’জন আযাদ প্রাপ্ত বয়স্ক বিবেকবান দুই জন মুসলিম স্বাক্ষের সামনে পাত্র/পাত্রি প্রস্তাব দিবে আর অপরপক্ষে পাত্র/পাত্রি তা কবুল করবে। আর সাক্ষিগণ উভয়ের কথা সুষ্পষ্টভাবে শুনবে।

আর শরয়ী এ শর্তাবলী পরিপূর্ণভাবে টেলিফোনে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই টেলিফোন বা মোবাইলে বিবাহ করা জায়েজ নয়। {ফাতওয়ায় উসমানী-২/৩০৪,৩০৫} তবে নিম্নে বর্ণিত পদ্ধতিগুলোতে শরিয়া মোতাবেক অনলাইনে বিয়ে করা যেতে পারে। 

প্রথম পদ্ধতি :
টেলিফোনে বিবাহের সবচেয়ে সুন্দর পদ্ধতি হলো, মেয়ে অথবা মেয়ের অভিভাবক যেখানে ছেলে থাকে সেখানকার কোন ব্যক্তিকে টেলিফোনের মাধ্যমে উকিল বানাবে। অত:পর সে উকিল কম পক্ষে দুই জন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুই জন মহিলার সামনে বরকে বলবে,
অমুকের মেয়ে অমুককে এত টাকা মোহরানায় তোমার নিকট বিবাহ্ দিলাম। বর যদি উক্ত মজলিসে বলে যে, 'আমি কবুল করলাম' তাহলেই বিবাহ হয়ে যাবে। এর পর থেকেই উক্ত ছেলে উল্লেখকৃত মেয়ের স্বামী হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ঐ  তার স্ত্রী হিসেবে গণ্য হবে।

দ্বিতীয় পদ্ধতি :
এমনিভাবে বর যদি যেখানে মেয়ে থাকে সেখানকার কাউকে টেলিফোনের মাধ্যমে উকিল বানিয়ে দেয়। অত:পর সেই উকিল কম পক্ষে দুই জন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুই জন মহিলার সামনে মেয়েকে এ কথা বলে যে,
অমুকের ছেলে অমুককে এত টাকা মোহরানায় তোমার নিকট বিবাহ্ দিলাম। এর পর মেয়ে যদি উক্ত মজলিসে বলে যে, 'আমি কবুল করলাম' তাহলেও বিবাহ হয়ে যাবে। সর্বাবস্থায় বিবাহের পূর্বে খুৎবা পড়া সুন্নত।

তৃতীয় পদ্ধতি :
আরেকটি পদ্ধতি হলো, মেয়ে অথবা মেয়ের অভিভাবক মেয়ের অনুমতি স্বাপেক্ষে টেলিফোনে সরাসরি বরকেই বিয়ের উকিল বানিয়ে দিবে। অত:পর বর কম পক্ষে দুই জন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুই জন মহিলার সামনে এ কথা বলার মাধ্যমে বিবাহ কার্য সম্পাদন করবে যে,
অমুকের মেয়ে অমুক আমার সাথে তার বিবাহের ব্যাপারে সে নিজে অথবা তার অভিভাবকের মাধ্যমে আমাকে উকিল বানিয়েছে। সেমতে এত টাকা মোহরানায় আমি তাকে বিবাহ করলাম। তাহলে বিবাহ্ সম্পপন্ন হয়ে যাবে।
ঠিক তদ্রুপ ছেলেও যদি উক্ত নিয়মে মেয়ে উকিল বানায় অত:পর মেয়ে উল্লেখিত নিয়মে বিবাহ কার্য সম্পাদন করে তাহলেও বিবাহ সহীহ হয়ে যাবে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, সর্বাবস্থায়ই কিন্তু স্বাক্ষির উপস্থিতি জরুরি।

فى الدر المختار- ( و ) شرط ( حضور ) شاهدين ( حرين ) أو حر وحرتين ( مكلفين سامعين قولهما معا ) (الدر المختار ، كتاب النكاح،-3/9)

অনুবাদ-বিবাহ সহীহ হওয়ার শর্ত হল শরীয়তের মুকাল্লাফ [যাদের উপর শরীয়তের বিধান আরোপিত হয়] এমন দুইজন আযাদ পুরুষ সাক্ষি বা একজন আযাদ পুরুষ ও দুইজন মহিলা সাক্ষি হতে হবে, যারা প্রস্তাবনা ও কবুল  বলার উভয় বক্তব্য স্বকর্ণে উপস্থিত থেকে শুনতে পায়। {আদ দুররুল মুখতার-৩/৯, ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/২৬৮}

সমাজের ভুল নিয়ম :
এক. সরাসরি ছেলে মেয়েকে টেলিফোনে বিবাহ করে। মোবাইলের সাউন্ড বাড়িয়ে আওয়াজ জোরে দেয়া হয়, যাতে সবাই শুনতে পারে। এরপর ছেলে প্রবাস থেকে মোবাইলে কবুল করে। এভাবে বিবাহ করলে তা সহীহ্ হবে না।

দুই. মেয়েকে পুরুষদের সামনে উপস্থিত করা হয়। তারপর তার থেকে ইযিনসহ যাবতীয় বিষয়াদি সম্পন্ন করা হয়। যা একটি কুসংস্কার। এতে পর্দা নষ্ট হয়।

তিন. অনেক সময় দেখা যায়, মেয়ের কাছ থেকে ইযিন আনতে কয়েকজন পুরুষসহ মেয়ের কাছে যায়। যেন মেয়ের ইযিন তারা শুনতে পারে। এটিও একটি বেদাতি পন্থা। বরং ইযিন মেয়ের অভিভাবক নিবে। সেখানে পর পুরুষের যাওয়ার কোন প্রশ্নই নেই।

পরিশেষে :
তাই আসুন আমরা সকলে টেলিফোনে বিবাহের ব্যাপারে সতর্ক হই। অনেক বিবাহ আছে যা টেলিফোনে হয় কিন্তু তা বৈধ বিবাহ হয় না। এ বিষয়ে আমাদের আরো সতর্কতা প্রয়োজন।

Post a Comment

do not share any link

নবীনতর পূর্বতন