মায়ের কাছে চিঠি
মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ (কুষ্টিয়া)
মুদাররিস- ‘দক্ষিণখান দারুল উলুম মাদরাসা’ দক্ষিণখান, ঢাকা।

প্রারম্ভিকা ঃ
পথিবীত মায়ের চেয়ে আপন কেউ নেই।
অন্তরঙ্গ কেউ নেই।
নেই ভালােবাসার মানুষও।
প্রসব বেদনা?
সে কী কষ্টের যন্ত্রণা!
মা তা হাসিমুখে বরণ করেন।
সদ্য প্রস্ফুটিত নব জাতকের চেহারা দেখে মা সব ভুলে যান।

রক্তমাখা বদনের দৃশ্য ভুলে যান।
কষ্টের সবকিছুই তিনি ভুলে যান।
জন্মের পর থেকেই মা সন্তানকে নিয়ে ভাবেন। 
বিপদ-আপদে সন্তানের পাশে দাঁড়ান। 
প্রতিটি মূহুর্তে সন্তানের ছায়া হয়ে থাকেন মা জননী।

যখনই সন্তানের উপর একের পর এক হিমালয়ের মত বিশাল তুফানের ঝাপটা এসে জীবন তরী ভেঙ্গে চুরমার করে দিতে চায়,
তখনই মা নির্ভীক নাবিকের মত সন্তানের হাল ধরেন। অকূল পাথার থেকে উদ্ধারের প্রয়াসে তাওহীদী অঙ্গুলী নির্দেশে কূলের সন্ধান দন।

বিয়াবান মরূ সাহারায় সন্তান যখন একাকী পথহারা পথিকের মত নিরাশ হয়ে জীবনের আশার ক্ষীণ আলাের রশ্মিটুকুও দেখতে পায় না
সেই কঠিন দুঃসময়েও মহিয়সী মা ধ্রব নক্ষত্রের দিকে হাত বাড়িয়ে সান্ত্বনা বাণী শুনিয়ে বলেন, 
ওইতাে আলাে। নিরাশ হয়াে না দরগাহে আল্লাহর। আল্লাহর নিরানব্বই মায়া থাকে উপরে বান্দা

মায়ের করুণা ধারা সন্তানকে শাণিত করে ইস্পাত কঠাের। চরিত্রে আনে হিমালয়ের সাহস। 
তাই সন্তানের প্রতিটি কদমে রয়েছে
মায়ের সীমাহীন ত্যাগ। তিতিক্ষা। 
অনন্ত দুঃখ আর যন্ত্রণা। 
অসীম করুণা এবং অন্তহীন ভাবনা।

এই মা কেই আল্লাহ্ তায়ালা সম্মান করতে বলেছেন। খেদমত করতে বলেছেন। আযমত আর মহাববতের চাদরে ঢাকতে বলেছেন।
আর বলেছেন, যত হক আছে তা আদায় করতে।এইজন্য প্রতিটি মুহূর্তের দাবী মায়ের সঙ্গে সদাচরণ করা। মা কে মহাববত করা। তা‘যীম করা। হৃদয় উজার করে ভালােবাসা।

চিঠি ঃ
প্রিয় ‘মা’! পত্রের প্রথমে নিও আমার সালাম, অজস্র শ্রদ্ধা ও অসংখ্য ভালোবাসা। বাবাকে আমার সালাম জানিয়ো; আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আশা করি খোদার অশেষ রহমতে তোমরা ভালোই আছো। আমিও তোমাদের দোয়ায় অনেক ভালো আছি।
জানো মা! আমি যে মাদরাসায় ভর্তি হয়েছি তা অনেক সুন্দর। শহরের পাশে অবস্থিত এবং তার গা ঘেষে রয়েছে সুন্দর একটি মাঠ। আর তারই সাথে রয়েছে ছোট্ট একটি নদী।
মাদরাসার উস্তাদ ও ছাত্ররা অনেক ভালো। তারা আমাকে অল্প সময়ের মধ্যেই আপন করে নিয়েছে।
মা! মাদরাসায় ভর্তি হয়ে আমি অনেক খুশি। তার মনোরম দৃশ্যে আমি মূগ্ধ। উস্তাদ ছাত্রদের ভালোবাসায় আমি সিক্ত।
কিন্তু মা! তোমাকে অনেক ‘মিস’ করছি। ক্ষণে ক্ষণে তোমাকে অনুভব করছি। মাঝে মাঝে কোথায় থেকে ভেসে আসা তোমার আদরের ডাক ‘খুকুমনি’ আমাকে ব্যাকুল করে তুলে। আমার মন তখন গলা কাটা কবুতরের ন্যয় ছটফট করে।
মা! তোমার আদর-যত্ন, মায়া মমতা ও ভালোবাসার স্নিগ্ধতা আমি উপলব্ধি করি। আমার জন্য তোমার কত কষ্ট? যা তুমি পাড়ি দিয়েছো নির্ভিক নাবিকের ন্যয়।
গর্ভ ধারণ, প্রসব বেদনা ও লালন-পালনের যত কষ্ট ও যন্ত্রণা, তুমি তা চোখ বুজে সহ্য করেছো। আমার জন্য তোমার কত ভালোবাসা? তা কেবল বলতে পারে একজন মমতাময়ী মা।
তুমি না খেয়ে খাইয়েছো আমাকে। তুমি না ঘুমিয়ে ঘুম পাড়িয়েছো আমাকে। আমাকে দূরে রাখার কষ্ট বুকে চাপা দিয়ে বিদায় দিয়েছো হাসি মুখে।
আমি আড়ালে চলে গেলে কেঁদেছো মূখে আঁচল রেখে। বিদায় মূহুর্তে তোমার গোছানো টাকা দিয়েছো আমার হাতের মুঠে। যাতে কষ্ট না হয় আমার চলার পথে।
মা! আমার জন্য তোমার এত আত্মত্যাগ, অক্লান্ত পরিশ্রম, দুঃখ কষ্ট সহ্য সহ রয়েছে তোমার ভরপুর আশা আকাঙ্খা। আমি তা স্বরণ করে এ প্রত্যয় নিয়েছি; তোমার আশানুপাতে আমি একজন বড় হক্কানী বাআমল আলেম হব, ইনশাআল্লাহ্।
তুমি আমায় দোয়া দিও মা। বাকি আমার পক্ষ থেকে তোমার প্রতি অনুরোধ! মা তুমি নিজের দিকে খেয়াল রাখবে। ঠিক টাইমে গোসল করবে ও খাবার খাবে। সময় মত ঘুমাবে। ঠান্ডা থেকে বেঁচে থাকবে।
আমি তোমাদের জন্য সব সময় এই দোয়া করি, “হে আল্লাহ! আমার আম্মা-আব্বাকে সেভাবে লালন পালন কর যেভাবে তাঁরা আমাকে ছোট বেলায় লালন পালন করেছেন”। (আমিন। হে  আল্লাহ! যারা আমীন বলবে তাদেরও।)
                                                         ইতি 
তোমার খুকুমনি আব্দুল্লাহ্


যাদের লেখা পাঠানোর ইচ্ছা তারা নিজের লেখা পাঠাতে পারেন এই ঠিকানায়-
annasihah91@gmail.com

আমরা তা ছাপানোর চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ্

1 মন্তব্যসমূহ

do not share any link

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

do not share any link

নবীনতর পূর্বতন